একবারও মনে হয়নি যে মেয়েটা আমার বেঁচে নেই
মৌচাকে দেখলাম লোকজনের জটলা
একজনকে জিজ্ঞেস করতেই বলল মইরা গেছে
এরপর কীভাবে গেলাম বলতে পারব না
রাস্তায় মুখ থুবড়ে মেয়েটা পড়ে আছে
আমাকে চেহারা দেখতে দিচ্ছিল না
লাশটা চাদরে মুড়িয়ে পুলিশের ভ্যানে ওঠালাম
সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
ময়নাতদন্তের জন্য চিকিৎসক ছিল না
সারা দিনের অপেক্ষা শেষে বিকেলে লাশ পেলাম
রাতে রাজশাহী ওর নানাবাড়িতে কবর দিলাম
বলে আবারও কান্নায় ভেঙে পড়েন ফারজানার মা
ফারজানা হোসেন ঢাকা সিটি কলেজের মার্কেটিং বিভাগের স্নাতক সম্মান শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন
ওর বান্ধবীরা সবাই এ বছর মাস্টার্স পাস করেছে
আমার মেয়েটাও নিশ্চয় করত
খুব আহ্লাদি ছিল
ওকে ছাড়া ওর বাবার খুব কষ্ট হয়েছিল
আমাদের বড় মেয়ে স্বামীর সঙ্গে থাকে আমেরিকায়
ফারজানার মৃত্যুর সময় আমার নাতনির বয়স ছিল ৪৫ দিন
সে জন্য বোনকে দেখতেও আসতে পারেনি বড় মেয়ে
এভাবে সিলভী ছাড়া দিন কাটছিল
হঠাৎ একদিন সন্ধ্যাবেলা পুলিশ সমন নিয়ে আসে আদালত থেকে
২০০৮ সালের জুলাই মাসে
বলে “রায়ের তারিখ ধার্য হয়েছে
” এদিকে আমরা তো কিছুই জানি না
পরদিন ওর বাবা গেল আদালতে
আবার আমরা মামলার চার্জশিট করতে বললাম
একজন আইনজীবীকে ঠিক করলাম মামলা পরিচালনার জন্য
জজকোর্টে গিয়ে সব কাগজপত্র দিলাম
তিনি মামলার তারিখ দিলেন
কিন্তু টাকার জন্য বেশ চাপ দিলেন
এভাবে মামলা চলতে থাকল
গত বছর হঠাৎ সিলভীর বাবা হূদ্যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান
আমার মাথায় পুরো আকাশ ভেঙে পড়ল
একদিকে সন্তানের শোক অন্যদিকে স্বামীর
তুবও সন্তানের হত্যাকারীর বিচারের জন্য পিছপা হলাম না
আইনজীবী তেমন একটা সাহায্য করছিলেন না
তিনি ঠিকমতো মামলাটা পরিচালনা করছিলেন না
তখন আরেকজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হই
তিনি উল্টো মোটা অঙ্কের একটা অর্থ চেয়ে বসলেন যা আমার পক্ষে কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব ছিল না
ধীরে ধীরে আমি হতাশ হয়ে পড়ি
আইনজীবীর সঙ্গে আর যোগাযোগ করি না
২০০৯ সালের নভেম্বরে মামলার আরেকটি তারিখ পড়ে
জজকোর্টে গেলাম
সেখানে আমাদের আরেকজন আইনজীবী পরিচিত ছিলেন
তিনি বললেন থানা থেকে মামলা প্রথম যেখানে যায় ওই অফিসে খোঁজ নিতে
সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম আমার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষের
তাই এর সব দায়ভার রাষ্ট্রের
এ জন্য আমার কোনো খরচ নেই
মামলার নম্বর নিয়ে আবার জজকোর্টে গেলাম
সেখানে তাঁরা বললেন নতুন তদন্তপত্রের চূড়ান্ত প্রতিবেদন লাগবে
আমি রমনা থানার সেই তদন্ত কর্মকর্তাকে ফোন করি
তিনি আসেন এবং চালক নুরুল ইসলামকে একমাত্র আসামি করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন
এর মধ্যে কতবার যে আদালতে গিয়ে সারা দিন বসে থেকেছি
সবার থেকে আশানুরূপ ব্যবহার পাইনি
তবে আমার বোনের স্বামী ছেলে বোন ভাশুর ও চাচা খুব সাহায্য করেছিলেন
সবাই যেত আমার সঙ্গে
সিলভীর বান্ধবীরা লিজা মৌরী আর মৌরীর বাবা তো সাক্ষীই ছিলেন এই মামলার
১৯ সেপ্টেম্বর সকালেই গিয়েছিলাম
আইনজীবীরা বলাবলি করছিলেন সর্বোচ্চ শাস্তিই পাবে
তবুও রায় না হওয়া পর্যন্ত অস্থির লাগছিল
অবশেষে দুপুর আড়াইটায় মামলার রায় ঘোষণা করা হয়
খুশি আর কষ্ট যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়
মেয়ের হত্যাকারীর বিচার হয়েছে
কিন্তু যত দিন না তা কার্যকর হচ্ছে তত দিন শান্তি পাব না
এত দিন ধরে মামলাটি পরিচালিত হয়েছে এর মধ্যে মাত্র একদিন আসামিকে দেখতে পেয়েছি
পরে শুনেছি জামিন পেয়েছে
আমি চাই আসামিকে তাড়াতাড়ি যেন আটক করা হয়
একা একা আর কষ্ট সহ্য করতে পারছি না
মেয়ের বাবা তো কষ্ট সহ্য করতে না পেরে চলেই গেলেন
কারও সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারি না
এত কষ্ট বুকে
আমার সুখে ভরা সংসারটা কেমন শূন্য হয়ে গেছে
সব থেকেও কিছুই নেই
কথা বলতে বলতে মেয়ের পোশাকে হাত বোলাতে থাকেন
হয়তো সেখানেই মেয়েকে খোঁজেন সুফিয়া হোসেন
দ্রুত এসব মামলার নিষ্পত্তি ঘটাতে হবে
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নিরাপদ সড়ক চাই
দীর্ঘ ১৭ বছরে এমন রায় হয়নি
সড়ক দুর্ঘটনার মামলাগুলো শেষ পর্যন্ত আশানুরূপ রায় পায় না
এটি পেয়েছে
তবে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে ফারজানার মাকে যা কাম্য নয়
এতে তাদের মনোবল ভেঙে যায়
হতাশ হয়ে পড়ে
দ্রুত এসব মামলার নিষ্পত্তি ঘটাতে হবে
আসামিকে কোনো অবস্থাতেই জামিন দেওয়া যাবে না
এমন আইন সরকারকে করতে হবে
এ মামলার রায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা ও বিচারককে ধন্যবাদ জানাতে চাই
সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তি নিয়ে ১৯৮২ সালের আইনের ৩০৪ ধারায় বলা হয়েছিল আসামিকে অজামিনযোগ্য ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হবে
এই আইন আবার করা উচিত
এ ক্ষেত্রে সবার আন্তরিক সহযোগিতা করা উচিত
সীমান্তের চোরাচালান দমনে কাজ করছেন নারীরাও
১৯ সেপ্টেম্বর বেলা আড়াইটা
কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের দমদমিয়া বিডিআর চেকপোস্ট
টেকনাফ থেকে কক্সবাজার এবং কক্সবাজার থেকে টেকনাফ অভিমুখে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী অসংখ্য বাস ট্যাক্সি মাইক্রো এই চেকপোস্টে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে
২০ বছর ধরে এই চেকপোস্টে বিডিআরের জওয়ানেরাই তল্লাশির দায়িত্ব পালন করতেন
আর এখন চোরাচালান দমনে সেই তল্লাশির দায়িত্ব পালন করছেন পোশাকধারী নারীরা
তাঁরা উদ্ধার করছেন নেশার বড়ি ইয়াবা ফেনসিডিল মদ-গাঁজাসহ নানা চোরাচালানের পণ্য
এই সড়কে জওয়ানদের সঙ্গে নারীদেরও চোরাচালান নির্মূলের কাজে অংশ নিতে দেখে অনেকে হতবাক হচ্ছেন
অনেকে বলছেন বিডিআরে আবার নারীসদস্য এল কখন থেকে
